দিনাজপুরের হিলিতে প্রথমবারের মতো স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ পিঠা উৎসব। শিক্ষার্থীসহ নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ পিঠার সঙ্গে পরিচিত করতে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। আর পিঠা উৎসবে আগতরা বলছেন, তারা হিলিতে এর আগে এই ধরনের আয়োজন দেখেননি। তাই এসেছেন এই পিঠা উৎসবে। ব্যতিক্রম আয়োজনে খুশি অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
উপজেলার খাট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া মডেল স্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেল থেকে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ পিঠা উৎসবে আসা শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ডাঙ্গাপাড়া মডেল স্কুল মাঠে পিঠা উৎসব শুনে এসেছি। এখানে এসে পাটিসাপ্টা, তালাইপুরী পিঠা খেলাম। বাড়িতে পিঠা খাওয়া হয়। তবে এত ধরনের পিঠা যে আছে, তা আমার জানা ছিল না। এখানে এসে অন্তত পিঠার নামগুলো জানতে পারলাম।
পিঠা উৎসবে আসা শাহরিয়ার আলমাস রক্তিম বলেন, বন্ধুবান্ধবসহ এই পিঠা উৎসবে এসেছি। বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছি। ভালোই লাগছে। আমাদের এলাকায় যে এত ধরনের পিঠা আছে, তা আমাদের জানাই ছিল না। এখানে এসে নকশা পিঠা, জামাই পিঠার নাম শুনলাম। সবাই মিলে খেলাম। বেশ ভালো লাগলো। প্রতিবছর যেন এমন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। তাহলে আমাদের মতো নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ পিঠা সম্পর্কে জানতে পারবে।
পিঠা উৎসবে অংশ গ্রহণকারী স্টল মালিক স্কুল শিক্ষার্থী মৌসুমী আক্তার মৌ বলে, আমি স্কুলে লেখাপড়া করি। আমাদের শিক্ষকরা এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছেন। আমরা কয়েকজন সহপাঠী মিলে একটি পিঠার স্টল দিয়েছি। দুধপুলি, খেজুর পিঠা, নিমপাতা পিঠা, পাটিসাপটা বিক্রি করছি। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে লোকজনের সমাগম অনেক বেশি ও আজ বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।
দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ পিঠা উৎসব সম্পর্কে জানতে ডাঙ্গাপাড়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম বলেন, প্রথম বারের মতো গ্রামীণ ঐহিত্যবাহী পিঠা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন। প্রথমবারেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। স্থানীয়রা ছাড়া অনেক দূর থেকে আসছেন অনেকে। এবারের পিঠা উৎসবে ১১টি স্টল আছে। স্টলগুলোতে ভাপাপুলি, দুধপুলি, খেজুর পিঠা, নিমপাতা পিঠা, পাটিসাপটা, জামাই সোহাগী, গোলাপ, চিতই, কানমুচরি, পায়েস, পুডিং, তেল পিঠা, দুধ চিতাইসহ ৫১ প্রকারের পিঠা বিক্রি হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই পিঠা উৎসব শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।