ভাইস চেয়ারম্যানের মামলায় জামিন পেলেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাসুদ বাবু, উপজেলা প্রতিনিধি হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট)
প্রকাশিত: বুধবার ২৩শে নভেম্বর ২০২২ ০৭:১১ অপরাহ্ন
ভাইস চেয়ারম্যানের মামলায় জামিন পেলেন চেয়ারম্যান

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন।


 


বুধবার (২৩ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আমিনুল ইসলামের একটি বেঞ্চ হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ১২ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।



এর আগে গত ১৭ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের একটি অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে আসামি করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।



জামিনের বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন ও তার আইনজীবি মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জ্বল নিশ্চিত করেছেন।



পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন ও ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের মধ্যে গত ৭ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের ভিতরে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।



ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার দাবি করেন, টিআর, কবিখা-কাবিটা কাজের বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়। পরে তার লোকজন তাকে মারধর করে ও তার অফিসে হামলা চালায়।



উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে এডিপি’র নারী ফান্ডে একটি প্রকল্পের হিসাব চাওয়ায় তাকে ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার ও তার স্বামী অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মারমুখী আচারণ করেন।



এ ঘটনায় ওই দিন রাতে জেসমিন নাহার বাদি হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ৮ জনকে আসামি করে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ১৪ নভেম্বর ১২ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ২ ভাইস চেয়ারম্যানও উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।



এ ঘটনার ১০ দিনেও ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করায় ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আদালতের আশ্রয় নেয় জেসমিন নাহার। ১২ জনকে আসামি করে লালমনিরহাট বিজ্ঞ জুডিসিয়াল আদালত ৪-এ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ওই অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে হাতীবান্ধা থানা পুলিশকে নিদের্শ দেয়। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ১৭  নভেম্বর রাতে অভিযোগটি নথিভুক্ত করেন হাতীবান্ধা থানা পুলিশ।