প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৮:৪০
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক গুম দিবসের দিনে বিশ্বব্যাপী সংহতি ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে উল্লেখ করেন, জোরপূর্বক গুম একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি বলেন, বিশেষ করে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রায়ই বিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতাবলম্বী নেতাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের কৌশল ব্যবহার করে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা তাকে ও সমগ্র জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্ট করেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ৭ শতাধিক মানুষকে জোরপূর্বক নিখোঁজ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আজ পর্যন্ত জোরপূর্বক গুমের কোনো মামলার বিচার হয়নি। তবে আশার কথা, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন করেছে।
তারেক রহমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের প্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি জোরপূর্বক গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত উল্লেখ করেন। রোম সংবিধানের ৭(২) ধারায় এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত। তারেক রহমান ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দায়ীদের বিচার ও জবাবদিহিতা জরুরি।
তিনি বিশ্বব্যাপী নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থাকে একত্রিত হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংহতি ছাড়া এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলিতভাবে জোরপূর্বক গুমের শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি নাগরিকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো অমানবিক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা পায়।