প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৫
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অবাধে পথেঘাটে সিমকার্ড বিক্রির কারণে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। গ্রামের অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপ নিয়ে একাধিক সিমকার্ড ও বিকাশ একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। পরে এগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বেড়া ডাকুরি গ্রামের মসলা ব্যবসায়ী আমজাদ আলী তিন বছর আগে মোটরসাইকেলে আসা সিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে সিমকার্ড নেন। সম্প্রতি প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের অভিযানে জানতে পারেন, তার নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত একটি সিমকার্ড প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি থানার মাধ্যমে মীমাংসা করেন।
আমজাদ আলীর স্ত্রী আসিয়া বেগম বলেন, পুলিশ আসার আগে আমরা কিছুই জানতাম না। সেসময় অন্তত ছয়জনকে সিম বিক্রি করেছিল তারা। আমরা সঠিক সমাধান চাই।
জামতৈল গ্রামের ফাতেমা বেগমের অভিজ্ঞতাও একই রকম। একটি সিম তার অজান্তে প্রতারণায় ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, আমি তো শুধু ২০ টাকায় একটি সিম নিয়েছিলাম। তারা বারবার আঙুলের ছাপ নিলো, কিন্তু ওই নাম্বার কখনও দেয়নি।
কোনাবাড়ি বাজারের বাসিন্দা মো. রনি জানান, ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনা সিমের বিকাশ একাউন্ট খুলতে গেলে দোকান থেকে জানানো হয়, তার এনআইডি দিয়ে আগেই একাউন্ট খোলা হয়েছে।
রবি-এয়ারটেলের এরিয়া ম্যানেজার মো. তারেক হোসেন বলেন, আগের চক্রকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন টেকনিক্যালি এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।
আশা কসমেটিকস ও টেলিকমের মালিক আশরাফুল আলম মনে করেন, গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে। অনুমোদিত দোকান ছাড়া সিম বা বিকাশ একাউন্ট করা উচিত নয়।
ঝাওয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, তিনি ইউনিয়নে ফেরি করে সিম বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। গোপালপুর থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, চক্রের সন্ধান চলছে এবং কাউকে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।