প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ২১:৩৩
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র ৯ দিনে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে আন্দোলনে শহীদ হওয়া ৬ জনের বাবা-মা ও ভাই, আহত আন্দোলনকারী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত।
সাক্ষীরা একমত হয়ে আদালতে জানিয়েছেন, হাজারো মানুষের হত্যার জন্য শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মামলায় আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।
প্রসিকিউশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য দিন ঘোষণা করবে। এই মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা এবং একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকও রয়েছেন।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হবে। এরপর আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করবেন।
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতিমধ্যেই দোষ স্বীকার করেছেন এবং রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনা, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’—মোট পাঁচটি অভিযোগে বিচার শুরু করার আদেশ দেয়। অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ করছে। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একটি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনা, অন্যটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত। মামলার চলমান প্রক্রিয়ায় সাক্ষীগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শেষে রায় ঘোষণা আশা করা হচ্ছে।