প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৩
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভিন্নতার কারণে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৪টায়, এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এবং বিএনপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা হলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দল তিনটির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হওয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধান এবং রাজনৈতিক সংলাপ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।
রাজনৈতিক উত্তাপের সূচনা হয়েছে শুক্রবার রাতে, যখন জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়ে যায়।
নুরের ওপর লাঠিপেটার ঘটনার জন্য দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এবং অন্তর্বর্তী সরকার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই বৈঠক সম্ভাব্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ। বৈঠকের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকরা আশা করছেন, বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যৌথভাবে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে, রাজধানী ও অন্যান্য শহরে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার প্রভাব কমাতে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সংলাপ দেশের জন্য শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথ তৈরি করতে পারে।