প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে শনিবার সকালে। টানা ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা ১৪টি লোহার দানবাক্স থেকে এবার উদ্ধার হয়েছে ৩২ বস্তা টাকা, যা মসজিদের পরিচালনা কমিটির জন্য বড় ধরণের সম্পদ।
সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা, মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষ। তারা এই সময় দানবাক্স খোলার পুরো প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।
প্রথা অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর এটি খোলা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর খোলার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি দানবাক্স যুক্ত করা হয়েছে। এটি মসজিদের দানের স্বচ্ছতা ও সঞ্চয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিলও ৪ মাস ১২ দিন পর দানবাক্স খোলার সময় রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিল। এবারের সংগ্রহ পূর্ববর্তী রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা কম হলেও তা মসজিদের কার্যক্রম চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য মসজিদ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। এটি নিশ্চিত করেছে যে দানবাক্স খোলার সময় কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে খোলা দানবাক্সের টাকা মসজিদের দৈনন্দিন কার্যক্রম, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং এতিমখানার ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
স্থানীয়রা এ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দানের স্বচ্ছতা বজায় রাখায় কমিটির ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষও আশা প্রকাশ করেছে যে ভবিষ্যতেও দানবাক্স খোলার কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে পরিচালিত হবে।