প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৯:১০
আগস্ট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে প্রায় ২.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা টাকায় প্রায় ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে রবিবার এ তথ্য জানানো হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরিত এই বিপুল রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গত জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ওই অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত দেশে পৌঁছে যাচ্ছে।
এছাড়া, প্রবাসীরা যে দেশে আছেন, সেই দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকারের সহজলভ্য প্রণোদনাও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ হওয়ায় প্রবাসীরা বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে আরও বলেছে, ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আরও বাড়াতে ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রসার এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে। হুন্ডি চক্র ও অবৈধ পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো কমানো হবে।
এভাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকার আরও সক্ষম হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে সুসংহত অবস্থান রাখতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স অপরিহার্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রমাণ করছে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও দ্রুত অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থার কারণে এই প্রবাহে ধারাবাহিকতা দেখা দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।