প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৪
ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, দেশটির নৌবাহিনী আটক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী দাবি করেছেন, দিল্লি থেকে আটক করে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এভাবে জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নুরুল আমিন নামে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের পাঁচজনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে, ফলে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ভিডিও কলে সৈয়দ নূর নামে আরেক রোহিঙ্গা জানান, তারা মিয়ানমারের বাহটু আর্মি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে অবিরাম সংঘর্ষ চলছে। তার ভাষায়, এলাকা পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
শরণার্থীরা অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে বিমানে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার পর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে তাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, তবু প্রাণ হাতে নিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠেন তারা।
রোহিঙ্গাদের একজন ফোনে জানান, তাদের হাত বেঁধে চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হয়েছিল। এরপর সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। নুরুল আমিন বলেন, মানবিকতা ভারতের সরকারের মধ্যে খুঁজে পাননি তিনি।
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ জানান, এসব অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে এবং তা ভারতের মিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো সাড়া মেলেনি।
ভারত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। জাতিসংঘের হিসেবে দেশটিতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ হলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তবে ভারতের রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র - বিবিসি নিউজ