প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৭:২০
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতার সঙ্গে তার ফাঁস হওয়া ফোনকলের জেরে শুরু হওয়া বিতর্কের পর শুক্রবার আদালত চূড়ান্তভাবে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। এর আগে গত জুলাই মাসে আদালত তার দায়িত্ব স্থগিত করেছিল।
পেতোংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মাত্র এক বছর পরই ক্ষমতা হারানোয় থাই রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব আরও গভীর।
বিতর্কিত ফোনকলটিতে পেতোংতার্নকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে এবং থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। এতে তিনি বলেন, থাই সেনাদের কারণে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়েছে। এ বক্তব্য দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর কয়েক মাস পর দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও ঘটে যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থেমে যায়।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনের আরও একটি অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, “যে কোনো কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।” এ বক্তব্য বিরোধী দলের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানায়।
ঘটনার সময় সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল জাতীয়তাবাদী মনোভাব দেখা গিয়েছিল। ফলে ফোনকলের বিষয়টি দেশজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়।
পেতোংতার্ন পরে ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার কথাগুলো ছিল কৌশলগত এবং উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আদালত বিষয়টিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে ১ জুলাই তার দায়িত্ব স্থগিত করে।
আজকের রায়ের মাধ্যমে তার প্রধানমন্ত্রীত্বের অবসান ঘটলেও তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় ছিলেন। তবে রাজনৈতিকভাবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং থাইল্যান্ডে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।