প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৪৯
ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) দালজিৎ সিং চৌধুরী দাবি করেছেন, বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় আসছেন এবং ভারত কোনো পুশব্যাক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। তিনি আরও বলেন, লাইফ থ্রেট ছাড়া বিএসএফ কখনও গুলি করে না।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে জানান, সম্মেলনে সীমান্তে শিশুদের ওপর অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে বিএসএফের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিএসএফ দাবি করেছে, চলতি বছরের কিছু ঘটনার কারণে তাদের পূর্ববর্তী নীতিমালা থেকে সরে আসতে হয়েছে। তবে যদি কেউ ভুলক্রমে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করে, তাকে বিজিবির হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এই দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক বিভাগ, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
ভারতীয় প্রতিনিধি দলেও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন চলাকালীন সীমান্তে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ডিজি দালজিৎ সিং চৌধুরী বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধ করা আমাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বিজিবি মহাপরিচালকও সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য বিএসএফের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সম্মেলনের আলোচনায় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মানবিক বিবেচনা সমন্বয় বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
৫৬তম সীমান্ত সম্মেলন চারদিন (২৫-২৮ আগস্ট) স্থায়ী হয়েছে এবং সম্মেলনের দলিল সইয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এতে দুই দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং মানবিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এবং সমঝোতা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী পরবর্তী সময়ে যৌথ নজরদারি, নিয়মিত সমন্বয় সভা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নয়নে একত্রিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।