প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৯
বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কট গভীর আকার ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং আর্থিক বৈষম্য মানুষের জীবনে নানা রকম চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইসলাম এই ধরনের সঙ্কট মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি ও সমাজের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। কুরআন ও হাদিসে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সুদের নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে অর্থনৈতিক সঙ্কটের অন্যতম কারণ হিসেবে সুদভিত্তিক অর্থনীতি এবং অযাচিত সম্পদ সঞ্চয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারা (আয়াত ২৭৯)-এ সুদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, "যদি তোমরা তা (সুদ) না ছাড়, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।" সুদমুক্ত অর্থনীতি সমাজে ভারসাম্য সৃষ্টি করে এবং দরিদ্র শ্রেণির উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে না।
যাকাত ইসলামের অন্যতম আর্থিক বিধান যা অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কুরআনে বলা হয়েছে, "তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ কর, যা তাদের পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে।" (সূরা তাওবা: ১০৩) যাকাত শুধু দারিদ্র্য দূরীকরণ নয়, বরং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে।
তাছাড়া ইসলামে ওয়াকফ বা সেবামূলক সম্পদ প্রতিষ্ঠা, সাদাকাহ, কর্জে হাসানা (সুদমুক্ত ঋণ) প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্রদের সহায়তা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার ভাইকে সুদমুক্ত ঋণ দেয়, তা একবার দান করার সমান।" (ইবনে মাজাহ) এটি সমাজে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় একটি কার্যকর পদ্ধতি।
অর্থনৈতিক সঙ্কটের আরেকটি কারণ অযথা বিলাসিতা ও অপচয়। কুরআনে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।" (সূরা ইসরা: ২৭) তাই ইসলামে সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও প্রয়োজনের বাইরে ব্যয় না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ন্যায়পরায়ণতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।" (তিরমিজি) ব্যবসায় প্রতারণা, মজুদদারি ও কালোবাজারি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অতএব, বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য সুদমুক্ত অর্থনীতি, যাকাতের সঠিক প্রয়োগ, সাদাকাহ, ওয়াকফ এবং কর্জে হাসানার প্রচলন বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিলাসিতা পরিহার করে সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সৎ ব্যবসায়িক নীতির চর্চা জরুরি। ইসলামের এই সমাধানগুলো গ্রহণ করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতি স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারবে।