“মুক্ত গণমাধ্যম তুমি কার?”

নিজস্ব প্রতিবেদক
এম. কে. রানা - বার্তা প্রধান ইনিউজ৭১
প্রকাশিত: সোমবার ৩রা মে ২০২১ ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
“মুক্ত গণমাধ্যম তুমি কার?”

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ। প্রতি বছর এ দিবসটি এলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নানা আলোচনা, টকশোতে বিচার বিশ্লেষন অনেক কিছুই হয়। তবে আদৌ কি আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা মুক্ত? আমরা কি স্বাধীন? কোনোরকম ভয়-ভীতি ছাড়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা-ই মুক্ত গণমাধ্যম। তবে তা আমরা কতটুকু পারছি বা পেরেছি?


গত এক দশকে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে কিংবা সংবাদ সংগ্রহকালে দেশে-বিদেশে অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মী হামলা, মামলার শিকার, নিহত বা আহত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীর জব সিকিউরিটি, তাদের বেতন কাঠামো বা ওয়েজবোর্ড কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে বা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


কেননা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে চলছে লুকোচুরি। আর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে অনেক সাংবাদিক সংগঠন গঠিত হলেও ওই সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের পক্ষে কথা বলা বা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কতটুকু ভুমিকা রাখছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ। 


পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত হচ্ছেন সাংবাদিকরা। স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা বা সদস্য সবার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।


দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের পরিসংখ্যান দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার চার দিন নিখোঁজ থাকার পর আহত অবস্থায় ছাড়া পেয়েও আতঙ্কে চিৎকার করে বলেছিলেন ‘আমি আর নিউজ করব না, আমাকে মারবেন না প্লিজ।’


এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২২ বছরে বাংলাদেশে অন্তত ৩৫ জন সাংবাদিক হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। দেশে একের পর এক সাংবাদিক হত্যা আর নির্যাতন-নিপীড়নের বিচার নেই। হত্যা ও নির্যাতনের অসংখ্য মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই।


যার বড় উদাহরণ আলোচিত সাগর-রুনী হত্যাকা-ের দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই মামলা ঝুলে আছে। বিচার না করায় দেশে এখন সাংবাদিক নির্যাতন নিত্যকার বিষয় হয়ে উঠেছে।


সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, বিশে^র অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রতিদিনই বাড়ছে সংবাদপত্র। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা। এর নেপথ্যে রয়েছে অবশ্য ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্য। বিভিন্ন ধনকুবের বা বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের নানা অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ পেলেই নিজেকে রক্ষায় তারা বড় হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন গণমাধ্যম।


অন্তত বিগত এক দশকে এমন চিত্রই দেখা যায়। দেশের শিক্ষিত বেকার তরুন গণমাধ্যম কর্মীদের উচ্চাকাঙ্খা দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করছেন। আর উচ্চ শিক্ষিত বেকার তরুন-তরুনীরা তাদের প্রলোভন বা বেঁচে থাকার তাগিদেই হোক ঝাপিয়ে পড়ছেন সেইসব উদ্দেশ্য প্রণোদিত গণমাধ্যমগুলোতে। এতে ঘটনার নেপথ্যের কারণ অধরাই থেকে যাচ্ছে। 


তাই আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশের সরকার, সাংবাদিক নেতবৃন্দ ও গণমাধ্যম মালিকদের প্রতি উদাত্ত আহবান থাকবে “গণমাধ্যম মুক্ত রাখুন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে টিকিয়ে রাখুন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে উদ্বুদ্ধ হোন, গণমাধ্যম কর্মীদের পাশে দাড়ান।” না হলে অনন্তকাল প্রশ্ন থেকেই যাবে “মুক্ত গণমাধ্যম তুমি কার?”

----লেখকঃ এম.কে. রানা, গণমাধ্যম কর্মী