প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৫
ইসলামে পরিবেশ সংরক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বারবার বলেছেন যে পৃথিবীকে তিনি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষকে এর খলিফা করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যেন সে পরিবেশকে সুরক্ষা করে এবং এর ক্ষতি না করে। আল্লাহ বলেন, “তিনি আকাশকে উত্তোলন করেছেন এবং তিনি ভারসাম্য স্থাপন করেছেন। যাতে তোমরা ভারসাম্যে ব্যাঘাত না ঘটাও।” (সূরা রহমান: ৭-৮)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) জীবনে পরিবেশ সংরক্ষণে অসংখ্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বৃক্ষরোপণকে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, “যদি কিয়ামত সংঘটিত হতে থাকে আর তোমাদের কারো হাতে একটি খেজুর গাছের চারা থাকে, তবে যেন তা রোপণ করে।” (সহিহ বুখারি)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, শেষ মুহূর্তেও পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখা ইসলামী দায়িত্ব।
পানি অপচয় না করাও ইসলামে পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তুমি যদি প্রবাহমান নদীর তীরে থেকেও ওযু কর, তবুও অপচয় করো না।” (ইবন মাজাহ)। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং অপচয় পরিহার করা ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কেও ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অযথা প্রাণী হত্যা বা তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করা হারাম। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি চড়ুই পাখি পর্যন্ত অন্যায়ভাবে হত্যা করে, কেয়ামতের দিন তা আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে।” (নাসাঈ)। এটি প্রমাণ করে ইসলামে প্রাণীজগত রক্ষার উপর কতটা গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইসলাম পরিবেশ দূষণকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “রাস্তা, ছায়া বা পানি পানের স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করো না।” (মুসলিম)। এর মাধ্যমে সমাজের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়।
প্রকৃতি ধ্বংস করা শুধু মানুষের ক্ষতি নয়, বরং আল্লাহর সৃষ্টির অবমাননা। কুরআনে বলা হয়েছে, “যখন তারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং চাষাবাদ ও বংশবিস্তার ধ্বংস করে, আল্লাহ তা পছন্দ করেন না।” (সূরা বাকারা: ২০৫)। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ করা ইবাদতের অংশ এবং এর অবহেলা গুনাহের কাজ।
ইসলামী সমাজে বৃক্ষরোপণ অভিযান, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এটি কেবল দুনিয়ার কল্যাণের জন্য নয় বরং পরকালীন সওয়াবের জন্যও অপরিহার্য।