প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৫
ইসলাম ন্যায়বিচারকে সমাজের মূলভিত্তি হিসেবে স্থাপন করেছে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেন ন্যায়বিচার করতে, সৎকর্ম করতে এবং আত্মীয়কে সাহায্য করতে” (সুরা নাহল: ৯০)। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে, মানুষ নিরাপত্তা অনুভব করে। অন্যায় ও অবিচার দূর হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সাবধান! যে ব্যক্তি অন্যায় করবে, তার বিপক্ষে আমি কিয়ামতের দিন নিজেই প্রতিশোধ নেব” (সহিহ মুসলিম)। এ হাদিসে বোঝা যায় যে ইসলামে ন্যায়বিচার শুধু সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়। এজন্য প্রতিটি মানুষের জন্য ন্যায়পরায়ণ হওয়া আবশ্যক।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ব্যক্তিগত সততা। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ন্যায়ের চর্চা করতে হবে। ইসলাম শিখিয়েছে, বিচারকের সিদ্ধান্তে ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-অসহায় কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের আগে যেসব জাতি ধ্বংস হয়েছে, তারা ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, ধনী ও ক্ষমতাবান অপরাধ করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর গরিব অপরাধ করলে শাস্তি দিত” (সহিহ বুখারি)।
বর্তমান সমাজে দুর্নীতি, অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইসলামী শিক্ষা হলো—অন্যের হক আদায় করা, দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকা এবং ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করা। এজন্য আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে সঠিক ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার উপর জোর দেয়। মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা” (সুনানে আবু দাউদ)।
যদি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে, অপরাধ ও সহিংসতা কমে যাবে। ইসলামী শিক্ষার আলোকে প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ দায়িত্বে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। এভাবেই একটি কল্যাণকর ও ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ গড়ে ওঠে।